সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ডিপোজিট করে ইনকাম! আজই শুরু করুন রিয়েল অ্যাপ দিয়ে

বর্তমানে মোবাইল ব্যবহার করে খুব অল্প টাকা ডিপোজিট করেও অনলাইন থেকে আয় করা সম্ভব। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে সহজে ডিপোজিট করে বিভিন্ন অ্যাপ থেকে ইনকাম করা যাচ্ছে।

আপনি যদি মাত্র ৫০ টাকা ডিপোজিট করে ইনকাম করতে চান, তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এখানে আমরা নিরাপদ ও জনপ্রিয় ৩টি অ্যাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো, যেখানে সাধারণত সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ডিপোজিট করে ইনকাম করা যাবে। 

৫০ টাকা ডিপোজিট করে ইনকাম করা কি সত্যিই সম্ভব?

অনেকেই প্রশ্ন করেন সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ডিপোজিট করে ইনকাম করা কি সম্ভব? আপনার প্রশ্নের উত্তর হল হ্যাঁ। তবে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ইনভেস্ট করে খুব একটা বেশি ইনকাম করা সম্ভব নয়।

বর্তমানে ইন্টারনেটে অনেক সাইট ও অ্যাপস রয়েছে, যেগুলোতে সাধারণত ইনভেস্ট করে বা ডিপোজিট করে খুব কম পরিমাণে ইনকাম করা যায়।

এক কথায় বলব ৫০ টাকা ডিপোজিট করে ইনকাম করা গেলেও, সেই ইনকাম আপনার জন্য পর্যাপ্ত হবে না। তাই আপনি ডিপোজিট করে ইনকাম করার চিন্তাভাবনা না করে, ফ্রিতে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করার চেষ্টা করুন।

আমরা কয়েকটি অ্যাপস সম্পর্কে আলোচনা করব, যেগুলোতে আপনি অবশ্যই ৫০ টাকা ডিপোজিট করে ইনকাম করতে পারবেন। 

সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ডিপোজিট করে ইনকাম করার অ্যাপস

অনলাইনে অনেক অ্যাপস পাবেন। যেখানে ইনভেস্ট করে সামান্য পরিমাণ ইনকাম করা যায়। তবে অবশ্যই আপনাদের ভুয়া অ্যাপস থেকে দূরে থাকতে হবে।

কিন্তু অনেক বিশ্বস্ত এপ্স রয়েছে, যেগুলোতে ডিপোজিট করে ইনকাম করার সুযোগ পাওয়া যায়। আপনি সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ডিপোজিট করেও সেই অ্যাপ গুলো থেকে দৈনিক আয় করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ  স্পিন করে টাকা ইনকাম করার ৮টি সেরা অ্যাপস

তবে ইনকামের পরিমাণ আপনার পছন্দ না হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বলবো ডিপোজিট না করে ফ্রিতে ইনকাম করার। কয়েকটি অ্যাপ আপনাদের মাঝে শেয়ার করব,

এই অ্যাপগুলোতে আপনি ডিপোজিট করে ইনকাম করতে পারবেন। এখানে কোন ঝুঁকি নেই, ১০০ পার্সেন্ট নিশ্চিতে ডিপোজিট করে ইনকাম করে পেমেন্ট নিতে পারবেন। 

১. Binance

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলোর মধ্যে Binance অন্যতম। অল্প টাকা ডিপোজিট করেও এখানে আয় করার সুযোগ রয়েছে।

আপনারা সকলেই জানেন এটি একটি ট্রেডিং অ্যাপস, এখানে আপনি টাকা ডিপোজিট করে ডিজিটাল কয়েন কেনাবেচা করে ইনকাম করতে পারবেন। মূলত ট্রেডিং করার মাধ্যমে ইনকাম করা যায়।

এছাড়াও এখানে ডিপোজিট করে কয়েন কিনে জমা রেখেও আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে আয়ের পরিমাণ অনেক কম। মূলত যে যত বেশি ডিপোজিট করে ট্রেডিং করবে বা কয়েন জমা রাখবে তারাই বেশি আয় করতে পারবে। 

অবশ্যই পড়ুনঃ 

অনেকেই আপনারা জানেন ট্রেডিং মূলত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, যাদের এই বিষয়ে জ্ঞান নেই তারা কখনোই ইনকাম করতে পারবেন না। এজন্য আমি বলব আপনি এখানে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ডিপোজিট করে নির্দিষ্ট কিছু কয়েন কিনে জমা রাখুন। এতে করে আপনি ইন্টারেস্ট থেকে আয় করতে পারবেন। 

সবচেয়ে ভালো হয় ডলার কিনে জমা রাখা। এতে সাধারণত প্রতি মাসে তিন থেকে চার পার্সেন্ট ইন্টারেস্ট পাওয়া যায়। আর যদি আপনি ট্রেডিং পারেন, সে ক্ষেত্রে ট্রেডিং করেই দৈনিক 300 থেকে 400 টাকা বা তার বেশি আয় করতে পারবেন। 

যেভাবে ইনকাম করবেন

  • ক্রিপ্টো Buy & Sell (Trading)
  • Binance Earn (স্টেকিং করে লাভ)
  • Launchpool / Airdrop
  • রেফার করে কমিশন

প্রায় ৫০ – ১০০ টাকা সমপরিমাণ ক্রিপ্টো দিয়ে শুরু করা যায় (P2P এর মাধ্যমে)। আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে Spot trading দিয়ে শুরু করুন। এতে তেমন ঝুঁকি নেই। আর আপনি বিকাশ নগদ ও রকেটের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। 

আরো পড়ুনঃ  ঘরে বসে আয় করুন ১৫০০০ ২০০০০ টাকা প্রতি মাসে ১০টি ট্রেন্ডিং উপায়

২. bKash

bKash সরাসরি ইনকাম অ্যাপ না হলেও এটি ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে আয় করা যায়। এটি মূলত একটি ডিজিটাল ওয়ালেট। আর এই ওয়ালেটে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ডিপোজিট করে বিভিন্নভাবে ইনকাম করা যায়।

আপনি এখানে মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা সহ কুইজ খেলার মাধ্যমেও ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়াও এখানে ডিপোজিট করে গেম খেলে ইনকাম করার সিস্টেম রয়েছে।

অ্যাপের মধ্যে আপনি লগইন করেই নিচের দিকে গেম খেলার সাবস্ক্রিপশন প্যাক কিনতে পারবেন।

সাধারণত ২০ টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন প্যাক কিনে আনলিমিটেড গেম খেলা যায় এবং পয়েন্ট জিতে ইনকাম করা যায়।

সরাসরি বিকাশের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আরও বিভিন্ন মাধ্যমে আয় করার সুযোগ রয়েছে। 

যেভাবে আয় করবেন

  • bKash Agent ব্যবসা
  • Send Money Cashback
  • মার্চেন্ট পেমেন্ট কমিশন
  • মোবাইল রিচার্জে লাভ

বর্তমানে এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে নিরাপদ মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম।

৩. KuCoin

KuCoin হলো Binance এর মতো একটি জনপ্রিয় ক্রিপ্টো ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম। এই অ্যাপটিতে অনেক বেশি আয় করা যায়। কারণ এখানে ট্রেডিং করা অনেকটা সহজ।

তাছাড়া এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ইভেন্ট এর আয়োজন করা হয়। যেগুলোতে আপনি অংশগ্রহণ করে ফ্রিতে ইনকাম করার সুযোগ পাবেন।

আর নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিপোজিটে ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগ আছে। এটা ১০০ পার্সেন্ট বিশ্বস্ত অ্যাপ, যেখানে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ডিপোজিট করে আয় করতে পারবেন। 

যারা নতুন ব্যবহারকারী রয়েছেন তারা এই অ্যাপটিতে নতুন একাউন্ট খুলেই ১০০ থেকে ২০০ টাকা ডিপোজিট করে প্রথম ট্রেডিং সম্পন্ন করলেই 8 থেকে 10 ডলার বোনাস পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ আপনি এক হাজার টাকার বেশি বোনাস পেয়ে ইনকাম করতে পারবেন। 

এছাড়াও বিভিন্ন ডিজিটাল কয়েন ফ্রিতে দেওয়া হয়, যেগুলো এই অ্যাপটিতে বিক্রি করে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারবেন। তাছাড়াও রেফার কমিশন রয়েছে, রেফার করলে প্রচুর আয় হয় এই অ্যাপ থেকে।

আরো পড়ুনঃ  বিকাশে পেমেন্ট করে এমন সাইট - সেরা ৪টি

যদি সঠিকভাবে রেফার করেন তাহলে ডিপোজিট ছাড়াই অনেক টাকাই ইনকাম করতে পারবেন। আর প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ইভেন্ট থেকে ইনকাম করার চেষ্টা করুন। আর যদি ডিপোজিট করেন সে ক্ষেত্রে ট্রেডিং করে আয় করুন।

ইনকামের উপায়

  • Spot Trading
  • Futures Trading
  • KuCoin Earn
  • Trading Bot ব্যবহার

উপসংহার – সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ডিপোজিট

মাত্র ৫০ টাকা ডিপোজিট করে অনলাইন ইনকাম করা এখন আর কঠিন কিছু নয়। সঠিক অ্যাপ নির্বাচন করে নিয়মিত কাজ করলে ঘরে বসেই ভালো একটি সাইড ইনকাম তৈরি করতে পারবেন।

তবে অবশ্যই বিশ্বস্ত অ্যাপ নির্বাচন করে ইনকাম করতে হবে। যদিও ৫০ টাকা ডিপোজিট করে খুব বেশি ইনকাম করা যায় না, তাই সকলকে বলবো এটি আপনি পার্টটাইম ইনকামের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

যদি প্রকৃতপক্ষে ভালো পরিমান আর্নিং করতে চান, সে ক্ষেত্রে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করুন বা আর্টিকেল রাইটিং জব করুন। 

FAQs – সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ডিপোজিট

৫০ টাকা ডিপোজিট করে কি সত্যিই ইনকাম করা যায়?

হ্যাঁ, করা যায়। তবে ইনকামের পরিমাণ কম থেকে শুরু হবে। নিয়মিত কাজ, রেফার এবং সঠিক অ্যাপ ব্যবহার করলে আয় বাড়ানো সম্ভব।

নতুনদের জন্য কোন অ্যাপ সবচেয়ে ভালো?

নতুনদের জন্য টাস্ক ভিত্তিক অ্যাপ যেমন WorkUpJob সহজ।আর ক্রিপ্টোতে নতুন হলে Binance এর Spot trading দিয়ে শুরু করা ভালো।

প্রতিদিন কত টাকা ইনকাম করা সম্ভব?

আপনার কাজের সময় ও দক্ষতার উপর নির্ভর করে প্রতিদিন আনুমানিক ১০০ – ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করা সম্ভব।

Leave a Comment