বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম – সম্পূর্ণ স্টেপ বাই স্টেপ নিয়ম

বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হল বিকাশ। বিকাশ তাদের অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন সুবিধা প্রদান করে থাকে।

বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করে একে অপরের কাছে টাকা পাঠাতে পারেন। মূলত ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।

এছাড়াও বিকাশ পেমেন্টে থাকছে আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক অফার। যার কারণে অনেকেই বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম জানতে চান। আমরা এখন এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। 

Facebook Page Follow Now

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট কি? 

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট হলো একটি মোবাইল ভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট, যার মাধ্যমে আপনি 

  • টাকা পাঠাতে পারবেন
  • টাকা গ্রহণ করতে পারবেন
  • অনলাইন ইনকামের টাকা তুলতে পারবেন
  • বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বিল পরিশোধ করতে পারবেন
  • শপিং ও মোবাইল রিচার্জ করতে পারবেন

উপরোক্ত কাজগুলো বিকাশ পেমেন্ট একাউন্টের মাধ্যমে করা যায়। যারা পেমেন্ট একাউন্ট খুলতে চাচ্ছেন তারা বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলার যোগ্যতা গুলো দেখে নিন। নিচে দেওয়া হলঃ 

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলার যোগ্যতা

বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্ত গুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো বা দেখানো হলোঃ 

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
  • বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে
  • নিজের নামে রেজিস্ট্রার করা একটি মোবাইল নম্বর প্রয়োজন
  • বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে

উপরোক্ত কাগজপত্র গুলো থাকলেই আপনি সহজেই মোবাইল অ্যাপ দিয়ে বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন। বিকাশ ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট খুললে অনেক ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ  পেনড্রাইভ কি ধরনের ডিভাইস? সবকিছু সহজভাবে জানুন

বিশেষ করে পেমেন্টের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় বোনাস ও ক্যাশব্যাক অফার পাবেন। যারা বিকাশ ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট ব্যবসা করে থাকেন, তাদের জন্য অবশ্যই বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট প্রয়োজনীয়। তাই তারা সঠিক নিয়মে বিকাশ পেমেন্ট খুলে নিবেন। 

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য যা যা লাগবে

বিকাশ একাউন্ট খুলতে নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হবে, এই ডকুমেন্টগুলো থাকলেই আপনি বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট মাত্র দুই মিনিটে খুলে ফেলতে পারবেন। 

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • সক্রিয় মোবাইল নম্বর
  • নিজের একটি ছবি (বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে করলে)

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম 

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট অনেক পদ্ধতিতে খোলা যায়। প্রথমেই আমরা বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে একাউন্ট খোলার নিয়ম আলোচনা করব। নিম্নে ধাপে ধাপে সকল উপায় আলোচনা করা হলো।

১. বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে একাউন্ট খোলা

এটি সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে আপনি খুব সহজেই বিকাশ এজেন্টের সাহায্য নিয়ে বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খুলে নিতে পারবেন।

অবশ্যই পড়বেনঃ

শুধুমাত্র কিছু কাগজপত্র সাথে নিয়ে গেলেই একাউন্ট খোলা যাবে। নিম্নে একাউন্ট খোলার কিছু নিয়ম ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলোঃ

  • প্রথমেই নিকটস্থ বিকাশ এজেন্ট পয়েন্টে যাবেন
  • এবার আপনার NID কার্ড বিকাশ এজেন্টকে দিন
  • তারপর নিজের মোবাইল নম্বর দিন
  • এখন আপনার আঙুলের ছাপ ও ছবি তোলা হবে
  • কিছুক্ষণের মধ্যেই একাউন্ট অ্যাক্টিভ হয়ে যাবে

সাধারণত একাউন্ট খুলতে সময় লাগে পাঁচ থেকে দশ মিনিট। খুব দ্রুত এই পদ্ধতিতে একাউন্ট খোলা যায়। আপনি সরাসরি বিকাশ এজেন্ট পয়েন্ট অথবা বিকাশ কাস্টমার সার্ভিসে গিয়ে এভাবে সহজেই একাউন্ট খুলে নিতে পারেন।

২. বিকাশ অ্যাপ দিয়ে একাউন্ট খোলার নিয়ম

আপনি চাইলে নিজেই মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে একাউন্ট খুলতে পারেন। এর জন্য আপনার মোবাইলে বিকাশ অ্যাপটি ডাউনলোড থাকতে হবে। চলুন এবার বিকাশ অ্যাপ দিয়ে একাউন্ট খোলার নিয়ম দেখে আসি।

  • প্রথমেই আপনার ফোনে গুগল প্লে স্টোর থেকে bKash App ডাউনলোড করুন
  • এবার অ্যাপ ওপেন করে “Create Account” অপশনে ক্লিক করুন
  • মোবাইল নম্বর দিন ও OTP ভেরিফাই করুন
  • তারপর NID তথ্য ও ছবি আপলোড করুন
  • এখন ফেস ভেরিফিকেশন করে সম্পন্ন করুন
আরো পড়ুনঃ  রকেট একাউন্ট খোলার নিয়ম | রকেট একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

ভেরিফিকেশন শেষ হলে একাউন্ট চালু হয়ে যাবে। এভাবে কিছু সময়ের মধ্যে অ্যাপ দিয়ে সরাসরি বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলা যায়।

যাদের মূলত স্মার্টফোন রয়েছে, তারা চাইলে এই উপায়ে অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেই বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খুলতে পারেন। বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম আশা করি জানতে পারছেন।  

বিকাশ একাউন্ট খোলার চার্জ কত?

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলা সম্পূর্ণ ফ্রি। কোনো রকম চার্জ দিতে হয় না। অর্থাৎ আপনি বিনামূল্যে বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খুলে বিকাশের পেমেন্ট সম্পর্কিত সার্ভিস গুলো উপভোগ পারবেন।

তাই সকলে জেনে রাখুন বিকাশ একাউন্ট খুলতে টাকার প্রয়োজন হবে না বা কোন চার্জ নেই। ফ্রিতে এই অ্যাকাউন্ট খুলে সার্ভিস উপভোগ করা যাবে। 

বিকাশ একাউন্ট খুলতে কত সময় লাগে?

বিকাশ একাউন্ট আপনি খুব কম সময়ের মধ্যেই খুলে ফেলতে পারবেন। বিকাশের অফিসিয়াল অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই একাউন্ট খোলা যায়। এছাড়াও এজেন্ট পয়েন্ট থেকে মাত্র ১০ মিনিটে বিকাশ ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলতে পারবেন। 

  • এজেন্টের মাধ্যমে: ৫–১০ মিনিট সময় লাগতে পারে
  • অ্যাপের মাধ্যমে: ১০–৩০ মিনিট (ভেরিফিকেশন সাপেক্ষে)

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্টের সুবিধা

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলার কিছু সুবিধা রয়েছে, যা জানলে আপনি হয়তো বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খুলে ব্যবহার করবেন। নিম্নে বিকাশ পেমেন্ট একাউন্টের সুবিধা তুলে ধরা হলোঃ

  • একাউন্ট খোলা সম্পূর্ণ ফ্রি
  • টাকা পাঠানো ও গ্রহণ করা সহজ
  • মোবাইল রিচার্জ ও বিল পেমেন্ট সুবিধা
  • অনলাইন ইনকামের টাকা গ্রহণ করা যায়
  • ২৪/৭ ব্যবহার করা যায়
  • নিরাপদ ও বিশ্বস্ত ডিজিটাল সেবা

বিকাশ একাউন্ট ব্যবহারের সময় সতর্কতা

  • আপনার পিন নম্বর কাউকে দেবেন না
  • অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না
  • কল বা এসএমএসে NID বা OTP শেয়ার করবেন না
  • শুধুমাত্র অফিসিয়াল বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করুন

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট ক্যাশ আউট চার্জ কত?

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের ক্যাশ আউট চার্জ সাধারণ পেমেন্ট একাউন্টের তুলনায় অনেক কম।

  • মার্চেন্ট একাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট চার্জ: প্রতি হাজারে প্রায় 7–10 টাকা
  • গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট নেওয়া: সম্পূর্ণ ফ্রি
  • QR কোড পেমেন্ট: কোনো চার্জ নেই
আরো পড়ুনঃ  মাসে লাখ টাকা আয় করার উপায়: ঘরে বসে ইনকামের কার্যকর গাইড

এই কারণে দোকানদার ও অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য মার্চেন্ট একাউন্ট বেশি লাভজনক।

বিকাশ পেমেন্ট করার নিয়ম (Send Money / Payment)

বিকাশ দিয়ে পেমেন্ট করা খুবই সহজ। নিচে ধাপে ধাপে নিয়ম দেওয়া হলোঃ

  • প্রথমেই বিকাশ অ্যাপ খুলুন
  • এবার “Payment” অপশনে ক্লিক করুন
  • মার্চেন্ট নাম্বার বা QR কোড স্ক্যান করুন
  • এখন টাকার পরিমাণ লিখুন
  • পিন নাম্বার দিন
  • আর পেমেন্ট সফল হলে কনফার্মেশন মেসেজ পাবেন

পেমেন্ট করার জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ লাগে না।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের সুবিধা

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট ব্যবহারের বড় কিছু সুবিধা নিচে দেওয়া হলোঃ

  • গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে কোনো চার্জ নেই
  • ক্যাশ আউট চার্জ কম
  • QR কোড দিয়ে সহজ পেমেন্ট গ্রহণ
  • অনলাইন ও অফলাইন ব্যবসার জন্য উপযোগী
  • লেনদেন হিস্ট্রি সহজে দেখা যায়
  • ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের অসুবিধা

সব কিছুরই যেমন সুবিধা আছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এক্ষেত্রে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্টের কিছু অসুবিধা রয়েছে যেমনঃ 

  • ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য উপযোগী নয়
  • ব্যবসার কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে
  • ভুল লেনদেনে রিফান্ড পেতে সময় লাগে
  • কিছু ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট সীমাবদ্ধতা থাকে

শেষ কথা

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে আশা করছি আপনারা বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। কিভাবে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় তা আমরা দেখে দিয়েছি। যারা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিকাশ একাউন্ট খুলতে চাচ্ছেন, তারা পেমেন্ট একাউন্ট খুলতে পারেন।

বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলা খুবই সহজ। কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলেই বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খোলা যায়। যে কোন ব্যক্তি এই বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবে।

আর বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খুললে নির্দিষ্ট বোনাস পর্যন্ত পেতে পারেন। তাই সকলের সঠিক নিয়ম অনুযায়ী বিকাশ পেমেন্ট একাউন্ট খুলুন এবং বিকাশের ফ্রি পরিষেবা উপভোগ করুন। 

Leave a Comment