বর্তমানে অনলাইনে আয়ের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো Facebook। অনেকেই জানতে চান ফেসবুকে কত ভিউ কত টাকা পাওয়া যায়? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নির্ভর করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর।
আজকের আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো ফেসবুক মনিটাইজেশন, ভিউ অনুযায়ী ইনকাম এবং কীভাবে আয় বাড়ানো যায়।
ফেসবুকে কীভাবে টাকা ইনকাম হয়?
ফেসবুকে মূলত ভিডিও কনটেন্ট থেকে আয় করা যায়। এছাড়া পেজ, রিলস, লাইভ ভিডিও এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও ইনকাম সম্ভব। ফেসবুকের অফিসিয়াল মনিটাইজেশন সিস্টেমকে বলা হয় Facebook Monetization Program।ফেসবুকে আয়ের প্রধান উপায়ঃ
- ইন-স্ট্রিম বিজ্ঞাপন (In-Stream Ads)
- ফেসবুক রিলস বোনাস
- স্টারস (Facebook Stars)
- ব্র্যান্ড কোলাবরেশন
- ফেসবুক সাবস্ক্রিপশন
ফেসবুকে কত ভিউ কত টাকা
আপনার অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন ফেসবুকে কত ভিউ কত টাকা দেয়, আপনাদের এই প্রশ্নের উত্তরে এখন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।
ফেসবুকে কত ভিউ কত টাকা এই বিষয়টি সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। কারণ আপনার ফেসবুক ভিডিওতে অ্যাড দেখানোর উপনির্ভর করে ইনকাম হবে।
অবশ্যই পড়বেনঃ
আপনার আপলোডকৃত ভিডিও কনটেন্টটিতে কি ধরনের এড দেখানো হচ্ছে এবং সেখানে কোন দেশ থেকে ভিজিটের আসছে তার উপর নির্ভর করে ইনকাম হয়।
তবে আমাদের জানামতে সাধারণত ফেসবুক প্রতি এক হাজার ভিউয়ের জন্য দুই ডলার দিয়ে থাকে। মূলত অ্যাড দেখানোর উপনির্ভর করে ইনকাম হয়। তাই সঠিকভাবে ফেসবুকে কত ভিউ কত টাকা দেয় তা বলা সম্ভব নয়। নিচে আমরা আরো বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করলাম।
ফেসবুকে কত ভিউ হলে কত টাকা পাওয়া যায়?
আপনারা হয়তো জানেন ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক উপায়ে ইনকাম করা যায়। বিশেষ করে ভিডিও বানিয়ে ভিউ থেকে প্রচুর ইনকাম হয়। আমরা এখন ফেসবুকে কত ভিউ কত টাকা ইনকাম পাওয়া যায় তা নিয়ে কিছুটা ধারণা দেবো।
ইন-স্ট্রিম বিজ্ঞাপন থেকে ইনকাম
সাধারণত ফেসবুকে ১,০০০ ভিউতে আয় নির্ভর করে CPM (Cost Per 1000 Impressions) এর উপর।
- প্রতি ১,০০০ ভিউতে প্রায় $0.50 – $3 পর্যন্ত আয় হতে পারে
- ১ লাখ (100,000) ভিউতে আনুমানিক $50 – $300
- ১০ লাখ (1M) ভিউতে প্রায় $500 – $3000 পর্যন্ত ইনকাম সম্ভব
বাংলাদেশি টাকায় (প্রতি ডলার ১১০ টাকা হিসেবে ধরলে):
- ১ লাখ ভিউ ≈ ৫,৫০০ – ৩৩,০০০ টাকা
- ১০ লাখ ভিউ ≈ ৫৫,০০০ – ৩,৩০,০০০ টাকা
মনে রাখবেন: সব ভিউ মনিটাইজড হয় না। দর্শকের দেশ, ভিডিওর বিষয়বস্তু ও বিজ্ঞাপনের ধরন অনুযায়ী আয় কমবেশি হয়।
ফেসবুক মনিটাইজেশনের শর্ত কী?
ফেসবুকে ভিডিও মনিটাইজ করতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়:
- পেজে কমপক্ষে ১০,০০০ ফলোয়ার থাকতে হবে
- গত ৬০ দিনে ৬,০০,০০০ মিনিট ওয়াচটাইম থাকতে হবে
- অন্তত ৫টি অ্যাক্টিভ ভিডিও থাকতে হবে
- ফেসবুকের কমিউনিটি গাইডলাইন মেনে চলতে হবে
এই নিয়মগুলো সময়ে সময়ে আপডেট হয়, তাই অফিসিয়াল আপডেট দেখে নেওয়া ভালো।
ফেসবুক রিলস থেকে কত টাকা পাওয়া যায়?
Facebook Reels এখন খুব জনপ্রিয়। রিলস থেকে আয় নির্ভর করে ভিউ, এনগেজমেন্ট এবং দেশের উপর।
- ১ লাখ রিলস ভিউতে আনুমানিক $10 – $100 পর্যন্ত হতে পারে
- ভাইরাল রিলস হলে আয় আরও বেশি হতে পারে
তবে রিলস বোনাস প্রোগ্রাম সব দেশে সমানভাবে চালু নয়।
ফেসবুকে আয় কম বা বেশি হওয়ার কারণ
ফেসবুকে ভিউ অনুযায়ী টাকার পরিমাণ নির্ভর করে:
- দর্শকের দেশ (USA, UK হলে CPM বেশি)
- ভিডিওর ক্যাটাগরি (টেক, ফাইন্যান্সে CPM বেশি)
- ভিডিওর দৈর্ঘ্য
- এনগেজমেন্ট (লাইক, কমেন্ট, শেয়ার)
- বিজ্ঞাপনের চাহিদা
ফেসবুক ভিডিও থেকে কত টাকা আয় করা যায়
ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে তারা প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করতে পারবেন। অনেক সময় ফেসবুকে ভিডিওতে বেশি ভিউ আসলে আরো অনেক টাকা আয় করা যায়।
বর্তমানে ফেসবুক ক্রিয়েটর ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে। এক প্রতিবেদন অনুযায়ী একজন ভালো মানের ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রতিমাসে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা আয় করে।
ফেসবুক ভিডিও থেকে আয় করতে হলে প্রতিদিন ইউনিক ও আকর্ষণীয় ভিডিও আপলোড করতে হবে। আপনার হয়তো জানেন ফেসবুকে প্রতি 1000 ভিউয়ের জন্য দুই ডলার দিয়ে থাকে।
অনেক সময় এই ইনকাম কম বেশি হতে পারে। অর্থাৎ প্রতি এক হাজার ভিউয়ের জন্য ১.৫-২ ডলার পর্যন্ত দিতে পারে। ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে ও কনটেন্ট লিখে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা সম্ভব।
শুধু পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে কাজ করে যেতে হবে। মূলত আপনার ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে যত ভিউ আসবে তত আপনার ইনকাম বাড়তে থাকবে।
ফেসবুক থেকে কত টাকা আয় করা যায়
ফেসবুক থেকে কত টাকা আয় করা যায় এটি সরাসরি বলা সম্ভব নয়। তবে আমার জানামতে ফেসবুক থেকে আপনি ইচ্ছামত কাজ করে ইনকাম করতে পারবেন। আমি ফেসবুকে যত কাজ করতে পারবেন তত বেশি ইনকাম করতে পারবেন। ফেসবুকে বিভিন্ন উপায়ে আয় করা যায়।
প্রতিটি উপায় যদি আপনি মেনে কাজ করেন তাহলে প্রতি মাসে ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকার বেশি আয় করতে পারবেন। তবে এখানে আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম ও মেধা শক্তি এবং সময় দিয়ে কাজ করতে হবে।
ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে সবচেয়ে বেশি টাকা ইনকাম করা যায়। তাছাড়া এফিলিয়েট মার্কেটিং ,ফেসবুক মার্কেটিং করে ইনকাম করার সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
পাশাপাশি ফেসবুক মার্কেটপ্লেস থেকেও প্রোডাক্ট বিক্রি করে আয় করা যায়। ফেসবুকে আপনি কত ধরনের কাজ করছেন তার ওপর নির্ভর করে ইনকাম করার বিষয়টি বলা সম্ভব।
ফেসবুকে বেশি টাকা আয়ের কৌশল
- ইউনিক ও কপিরাইট-মুক্ত ভিডিও বানান
- ৩ মিনিটের বেশি ভিডিও তৈরি করুন
- ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে কাজ করুন
- নিয়মিত কনটেন্ট আপলোড করুন
- SEO অনুযায়ী টাইটেল ও ডিসক্রিপশন লিখুন
- বিদেশি অডিয়েন্স টার্গেট করুন
শেষ কথা
ফেসবুকে কত ভিউ কত টাকা পাওয়া যায় এটি নির্দিষ্ট কোনো ফিক্সড রেট নয়। আয় সম্পূর্ণ নির্ভর করে CPM, অডিয়েন্স, কনটেন্ট কোয়ালিটি এবং এনগেজমেন্টের উপর। সঠিকভাবে কাজ করলে ফেসবুক থেকে মাসে ভালো পরিমাণ আয় করা সম্ভব।
আপনি যদি নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করেন এবং মনিটাইজেশন নীতিমালা মেনে চলেন, তাহলে ফেসবুক আপনার জন্য একটি স্থায়ী ইনকামের মাধ্যম হতে পারে।

আমি উদ্ভাস আইটির এডমিন শিহাব, একজন অনলাইন ইনকাম ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। গত ৫ বছর যাবত আমি ব্লগিং এর সাথে যুক্ত রয়েছি। অনলাইন আয়ের বাস্তব ও কার্যকরী উপায়, প্রযুক্তির আপডেট এবং ডিজিটাল দুনিয়ার নানা দিক নিয়ে আমি নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি। লক্ষ্য একটাই পাঠকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরা।






