বর্তমানে একটি মোবাইল অ্যাপ শুধু বড় কোম্পানি বা দক্ষ প্রোগ্রামারদের জন্য নয়। আপনি চাইলে নিজের নাম, নিজের ব্র্যান্ড বা নিজের ব্যবসার নামে একটি অ্যাপ তৈরি করতে পারেন।
এমনকি প্রোগ্রামিং না জানলেও কিছু No-Code ও Low-Code প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু করা সম্ভব।
আর কিভাবে কোডিং ছাড়াই নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা করব।
যারা মূলত খুব সহজ উপায়ে নিজের নামে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে চান, তারা আজকের লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
এমন কিছু সহজ উপায় জানাবো যেগুলো অনুসরণ করে নিজের নাম সহ নিজের ব্যান্ডের নামে অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন।
নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করা যায় কি?
হ্যাঁ, নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করা যায়। অ্যাপের নাম হিসেবে আপনার নিজের নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম, ওয়েবসাইটের নাম অথবা পছন্দের কোনো ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করতে পারেন।
উদাহরণ হিসেবে, আপনার নাম যদি “Shahariar” হয়, তাহলে আপনি Shahariar App, Shahariar Digital, Shahariar Learning বা আপনার কাজের সঙ্গে মিল রেখে অন্য কোনো নাম রাখতে পারেন।
অবশ্যই পড়বেনঃ
তবে শুধু অ্যাপের নাম নিজের নামে রাখলেই হবে না। অ্যাপের Developer/Publisher Account, অ্যাপের আইকন, About Section এবং অন্যান্য জায়গাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার ব্র্যান্ড পরিচয় ব্যবহার করা যায়।
তাহলে বুঝতেই পারছেন নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব। যদি আপনি আমাদের দেখানোর সহজ উপায় বলে অনুসরণ করেন।
আপনি নিজের নাম সহ ব্যবসার নাম , নিজের ব্যান্ডের নাম ও ওয়েবসাইটের নাম অনুসারেও তৈরি করতে পারবেন। মূল কথা যে কোন নাম দিয়ে তৈরি করা যাবে।
এক্ষেত্রে আপনার কোন কোডিং বা প্রোগ্রামিং জানতে হবে না। সরাসরি ইন্সট্রাকশন দিয়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে তৈরি করে নিতে পারবেন। চলুন এবার বিস্তারিত জেনে আসি।
নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করতে কী কী লাগবে?
একটি সাধারণ অ্যাপ তৈরির জন্য শুরুতেই অনেক কিছু প্রয়োজন হয় না। তবে আপনার প্রয়োজন হতে পারেঃ
- একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ আইডিয়া
- একটি Android বা iPhone
- কম্পিউটার থাকলে সুবিধা
- অ্যাপের নাম
- অ্যাপের লোগো বা আইকন
- প্রয়োজনীয় ছবি ও কনটেন্ট
- অ্যাপ তৈরির প্ল্যাটফর্ম
- অ্যাপ প্রকাশ করার জন্য Developer Account
- Privacy Policy, যদি অ্যাপের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন হয়
আপনি যদি নিজে কোড লিখে অ্যাপ তৈরি করতে চান, তাহলে Java, Kotlin, Flutter বা React Native-এর মতো প্রযুক্তি শেখার প্রয়োজন হবে।
আর কোডিং না জানলে No-Code বা Low-Code প্ল্যাটফর্ম দিয়ে তুলনামূলক সহজ অ্যাপ তৈরি করা যায়। যার ফলে আপনি অ্যাপ তৈরি করে অনলাইন ইনকাম শুরু করতে পারবেন।
আবার নিজের ব্যবসার পরিচিতি বাড়তে পারবেন, পাশাপাশি নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করে পরিচিতি বাড়াতে পারবেন।
নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করার ৫টি উপায়
নিজের নামে অ্যাপ তৈরির জন্য একাধিক পদ্ধতি রয়েছে। কোন পদ্ধতি আপনার জন্য ভালো হবে তা নির্ভর করবে অ্যাপের ধরন, বাজেট এবং আপনার প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। এবার নিম্নে পদ্ধতি গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
১. No-Code প্ল্যাটফর্ম দিয়ে অ্যাপ তৈরি
আপনি যদি প্রোগ্রামিং না জানেন, তাহলে No-Code App Builder ব্যবহার করতে পারেন। এসব প্ল্যাটফর্মে সাধারণত Drag-and-Drop পদ্ধতিতে অ্যাপের বিভিন্ন অংশ সাজানো যায়।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি নিজের একটি ব্লগের জন্য অ্যাপ তৈরি করতে চান, তাহলে অ্যাপে রাখতে পারেনঃ
- হোমপেজ
- ক্যাটাগরি
- নতুন পোস্ট
- সার্চ অপশন
- About Us
- Contact
- সোশ্যাল মিডিয়া লিংক
এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে পাঠকদের দেখানো যেতে পারে। এভাবে আপনি বিভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে নিজের ওয়েবসাইটের বা নিজের নামের অ্যাপস তৈরি করে নিতে পারেন।
নিজের ওয়েবসাইটের জন্য অ্যাপ তৈরি করলে সহজেই পাঠকদের অ্যাপের মাধ্যমে কনটেন্ট সম্পর্কে জানাতে পারবেন।
২. ওয়েবসাইটকে অ্যাপে রূপান্তর
আপনার যদি আগে থেকেই একটি ওয়েবসাইট থাকে, তাহলে সেটিকে Android অ্যাপে রূপান্তর করা তুলনামূলক সহজ হবে।
বিশেষ করে WordPress ওয়েবসাইট থাকলে বিভিন্ন App Builder বা WebView-ভিত্তিক সমাধান ব্যবহার করে অ্যাপ তৈরি করা যায়।
ধরুন আপনার ওয়েবসাইটের নাম “udvasit”। আপনি চাইলে অ্যাপের নামও Udvas IT রাখতে পারেন।
অ্যাপে ওয়েবসাইটের পোস্ট, ক্যাটাগরি, যোগাযোগের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফিচার যুক্ত করা যায়।
তবে শুধু ওয়েবসাইটের URL একটি অ্যাপের মধ্যে দেখালেই ভালো অ্যাপের অভিজ্ঞতা তৈরি হয় না। অ্যাপের Navigation, Loading Speed, Mobile Design এবং ব্যবহারকারীর সুবিধার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে।
পাশাপাশি অ্যাপ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে। এতে করে অ্যাপ এ ভিজিটরের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। যেহেতু আপনি নিজের ওয়েবসাইট অ্যাপে রূপান্তর করেছেন।
সে ক্ষেত্রে অ্যাপের মাধ্যমে কনটেন্ট শেয়ার করুন। যদি ই-কমার্স ওয়েবসাইট হয় তাহলে অ্যাপের মাধ্যমেই প্রোডাক্ট লিস্ট করতে পারবেন এবং প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
বেশিরভাগই ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলো নিজেদের নামে অ্যাপ তৈরি করে থাকে। তারা বেশিরভাগই নিজেদের ওয়েবসাইট অ্যাপ এ রূপান্তর করে। আপনিও চাইলে নিজের ওয়েবসাইট ব্যবসার ক্ষেত্রে অ্যাপ এ রূপান্তর করতে পারেন।
৩. Android Studio দিয়ে নিজে অ্যাপ তৈরি
আপনি যদি প্রোগ্রামিং শিখতে আগ্রহী হন, তাহলে Android Studio ব্যবহার করে Android অ্যাপ তৈরি করতে পারেন।
এ পদ্ধতিতে অ্যাপের ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে বেশি থাকে। আপনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ফিচার তৈরি করতে পারবেন।
পাশাপাশি ইচ্ছামত অ্যাপ এর কাস্টমাইজেশন করতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করা যায়। এজন্য প্রফেশনাল ভাবে অ্যাপ তৈরি করতে হলে কোডিং জানতে হয়।
আর প্রোগ্রামিং জানলেই আপনি অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও এর সাহায্য নিয়ে প্রফেশনাল ভাবে অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন।
প্রফেশনাল ভাবে অ্যাপ তৈরি করতে জানলেই বিভিন্নভাবে ইনকাম করা যায়। যারা মূলত অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট জানেন, তারা সহজেই অ্যাপ এর বিভিন্ন ধরনের ফিচার যুক্ত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপঃ
- Login ও Registration
- User Profile
- Search
- Notification
- Database
- Online Payment
- API Integration
- বিভিন্ন ধরনের Dashboard
তবে এই পদ্ধতিতে কাজ করতে হলে Android App Development সম্পর্কে ভালো ধারণা প্রয়োজন।
৪. Flutter দিয়ে Android ও iOS অ্যাপ তৈরি
একই অ্যাপ Android এবং iPhone দুই প্ল্যাটফর্মে চালাতে চাইলে Flutter প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারেন।
এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এন্ড্রয়েড ও আইফোন ডিভাইসের জন্য অ্যাপস তৈরি করা যায়। আর একই অ্যাপস আপনি দুই প্লাটফর্মেই আপলোড করতে পারবেন এবং চালাতে পারবেন।
Flutter ব্যবহার করে একটি Codebase থেকে একাধিক প্ল্যাটফর্মের জন্য অ্যাপ তৈরি করা যায়। ফলে আলাদা করে দুটি অ্যাপ তৈরির প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।
তবে Flutter ব্যবহার করার জন্য Dart Programming Language এবং Flutter Framework সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার।
মূলত যাদের প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারনা থাকবে তারাই এই প্লাটফর্মের সাইজ নিয়ে প্রফেশনাল ভাবে অ্যাপস তৈরি করতে পারবেন।
৫. একজন App Developer দিয়ে অ্যাপ তৈরি
আপনি নিজে অ্যাপ বানাতে না চাইলে একজন দক্ষ App Developer বা App Development Agency-এর সাহায্য নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার অনেক টাকা খরচ হতে পারে।
তাছাড়াও কাস্টমাইজেশন ছাড়া নরমাল বানালে কম খরচ হয়। তবে আকর্ষণীয় ডিজাইনের অ্যাপ বানাতে অনেক খরচ হতে পারে।
তবে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন চার্জ লাগতে পারে। আর অ্যাপটি তৈরি করার জন্য অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি কে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপঃ
- অ্যাপের নাম কী হবে
- কী কী ফিচার প্রয়োজন
- Android নাকি iOS
- অ্যাপের ডিজাইন কেমন হবে
- অ্যাপের মালিকানা কার থাকবে
- Source Code কে রাখবে
- অ্যাপটি কোন Developer Account থেকে প্রকাশ করা হবে
উপরোক্ত তথ্যগুলো প্রদান করলেই অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি আপনাকে কম সময়ের মধ্যেই অ্যাপ রেডি করে দেবে। তবে আমরা যেহেতু ফ্রিতে নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করব।
তাই আমরা এই পদ্ধতি অনুসরণ করব না। এবার চলুন নিম্নে ফ্রিতে নিজের নামে অ্যাপস তৈরি করার উপায় দেখে আসি।
নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করার ধাপে ধাপে নিয়ম
এখন আমরা কোডিং ছাড়াই নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করার সহজ নিয়ম গুলো আলোচনা করব। প্রোগ্রামিং ছাড়াই কিছু প্লাটফর্ম ব্যবহার করে সরাসরি অ্যাপস তৈরি করা যায়। নিম্নে নিয়ম গুলো ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলোঃ
ধাপ ১: অ্যাপের উদ্দেশ্য ঠিক করুন
প্রথমেই ঠিক করুন আপনার অ্যাপটি কী কাজ করবে। আপনি বিভিন্ন টাইপের অ্যাপ তৈরি করতে পারেন। যেমনঃ
- নিউজ অ্যাপ
- ব্লগ অ্যাপ
- শিক্ষামূলক অ্যাপ
- ব্যবসায়িক অ্যাপ
- ক্যালকুলেটর অ্যাপ
- টুলস অ্যাপ
- অনলাইন শপিং অ্যাপ
- সার্ভিস অ্যাপ
- ব্যক্তিগত Portfolio অ্যাপ
অ্যাপের উদ্দেশ্য পরিষ্কার না থাকলে পরে ফিচার যোগ করতে গিয়ে সমস্যা হতে পারে। মূলত আপনি যেই ধরনের অ্যাপ তৈরি করবেন, সেটি আগে নির্বাচন করুন। তবে বেশিরভাগই আমরা নিজের নামে ব্যক্তিগত Portfolio অ্যাপ তৈরি করে থাকি।
ধাপ ২: অ্যাপের একটি নাম নির্বাচন করুন
নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করতে চাইলে নামটি সহজ এবং মনে রাখার মতো হওয়া ভালো। এই যেমন ধরুন আমি আমার ওয়েবসাইটের নাম অনুযায়ী অ্যাপ তৈরি করলাম। উদাহরণস্বরূপঃ
- Udvasit Learning
- Udvasit Tools
- Udvasit Blog
- Udvasit Digital
তবে নাম নির্বাচন করার আগে একই বা কাছাকাছি নামে অন্য কোনো জনপ্রিয় অ্যাপ বা ব্র্যান্ড আছে কি না তা যাচাই করে নিবেন।
একই নামে অন্য কোন জনপ্রিয় ব্যান্ড থাকলে সেই নাম ইউজ করার দরকার নেই। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা হতে পারে। পাশাপাশি অ্যাপসটির পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে সময় লাগতে পারে।
ধাপ ৩: অ্যাপের ডিজাইন তৈরি করুন
আপনারা জানেন একটি অ্যাপের মূল আকর্ষণ হল তার ডিজাইন। এজন্য অ্যাপের ডিজাইন ঠিক করুন। পাশাপাশি অ্যাপ তৈরির আগে এর প্রতিটি পেজের কাঠামো ঠিক করুন।যেমন একটি সাধারণ অ্যাপে থাকতে পারেঃ
Home → Categories → Details → Search → About → Contact
অ্যাপটি দেখতে সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহার করা যেন সহজ হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ভেবেচিন্তে ডিজাইন করবেন। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পেজ গুলো ভালোভাবে সেটআপ করে রাখবেন।
আর ইন্টারফেস সহজ হওয়া জরুরী। অ্যাপের ইন্টারফেস সহজ ও নরমাল হলে ইউজাররা ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
ধাপ ৪: অ্যাপ তৈরি করুন
আপনি যদি কোডিং বা প্রফেশনাল প্রোগ্রামিং জানেন, সে ক্ষেত্রে নিজে থেকেই কোডিং করার মাধ্যমে অ্যাপস তৈরি করতে পারেন।
তবে আপনারা যেহেতু নতুন কোডিং জানেন না, সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফ্রী প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অ্যাপস তৈরি করতে পারেন।
এজন্য আমরা আজকে নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করব। এই প্লাটফর্মটি হল appsgeyser.com। এখানে ফ্রিতে অ্যাপস তৈরি করা যায়। তাই আমরা এই অ্যাপ সম্পর্কে আলোচনা করব।
- প্রথমেই মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে গিয়ে appsgeyser লিখে সার্চ করুন। সবার প্রথমেই তাদের অফিসিয়াল প্লাটফর্মটি দেখতে পাবেন।

- এরপর ওয়েবসাইটে ঢুকে Create app for free অপশনটিতে ক্লিক করুন। এক্ষেত্রে অনেক সময় আপনার জিমেইল দিয়ে সাইন আপ করতে বলবে। সে ক্ষেত্রে সাইনআপ করে নিবেন।
- এবার আপনি তিনটি পদ্ধতিতে অ্যাপস তৈরি করতে পারবেন। আপনি চাইলে সরাসরি HTML কোড ব্যবহার করে অ্যাপস বানাতে পারেন।
- এক্ষেত্রে আপনাকে বিভিন্ন AI ব্যবহার করে HTML কোড বানিয়ে এখানে দিতে হবে।
- পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইট থাকলে সেটি ব্যবহার করেও অ্যাপস তৈরি করতে পারবেন।
- আমি এখানে ওয়েবসাইট ইউআরএল ব্যবহার করে অ্যাপস তৈরি করব। সে ক্ষেত্রে ইউআরএল অপশনটিতে যান।

- এখন আপনাকে ওয়েবসাইটের ইউআরএল দিতে হবে। আপনার নিজের সাইটের ইউআরএল দিয়ে দিবেন।
- পাশাপাশি এখন কোন নাম দিয়ে অ্যাপসটি তৈরি করতে চান, সেই নাম লিখুন।
- এবার নিচে আপনার জিমেইল বা ইমেইল একাউন্ট দিয়ে নেক্সট স্টেপ বাটনে ক্লিক করুন।
- এখন অ্যাপের আইকন বা লোগো সেট করার অপশন আসবে,
- আপনি ইচ্ছা মতো লোগো ও কালারের আইকন সেট করতে পারবেন।
- আপনার পছন্দমত লোগো ও কালার সেট করুন।

এরপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ অপশন সিলেক্ট করতে হবে, এখানে আপনি নিজের ইচ্ছামত বা অসুবিধা অনুযায়ী অপশনগুলো সিলেক্ট করতে পারেন।
এখন আপনাকে App layout view ও Action bar অপশন সিলেক্ট করতে বলবে। আপনার অ্যাপ এর ডিজাইন ও ফিচার অনুযায়ী সিলেক্ট করুন।
এবার নেক্সট স্টেপে ক্লিক করলেই ডাউনলোড করার অপশন পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ আপনার নিজের ব্র্যান্ড অনুযায়ী বা নাম অনুযায়ী অ্যাপ তৈরি হয়ে গেছে।
এখন ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে ডাউনলোড অপশন আসবে। যারা আগে থেকে গুগল জিমেইল দিয়ে একাউন্ট খুলেননি।
সে ক্ষেত্রে এখন আপনাকে জিমেইলটি সাইনআপ করে একাউন্ট খুলে আপনার তৈরি করা অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে।
এজন্য প্রথমেই আপনারা প্লাটফর্মটিতে প্রবেশ করে ফ্রিতে একাউন্ট খুলে নিবেন। তাহলে এই ঝামেলায় পড়বেন না।
আমি যেহেতু প্রথমে অ্যাকাউন্ট খুলে নেই, সেজন্য আমাকে অ্যাপ ডাউনলোড করতে হলে এখন অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
তাহলে আশা করছি আপনারা নিজের ওয়েবসাইটের নামে অথবা নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করার সহজ নিয়ম জেনে গেছেন। এখন আপনারা বাসায় বসেই নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে অ্যাপস তৈরি করুন।
বিভিন্ন টাইপের অ্যাপ্স এখানে তৈরি করা যাবে। সে অনুযায়ী ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে অ্যাপ বানান।
Google Play Store-এ নিজের নামে অ্যাপ প্রকাশ
Android অ্যাপ তৈরি করার পর সেটি Google Play Store-এ প্রকাশ করা যায়।এর জন্য Google-এর Developer Console ব্যবহার করতে হয়।
এখানে Developer Account তৈরি করে অ্যাপের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয় এবং Google-এর বর্তমান নীতিমালা মেনে অ্যাপ জমা দিতে হয়।অ্যাপ প্রকাশের সময় সাধারণত অ্যাপের-
- Name
- Description
- App Icon
- Screenshots
- Category
- Content Information
- Privacy-related information
ইত্যাদি প্রয়োজন হতে পারে। Google Play-এর নীতিমালা ও Developer requirements সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই অ্যাপ প্রকাশের আগে Google-এর সর্বশেষ নিয়মগুলো দেখে নেওয়া উচিত।
নিজের নামে অ্যাপ বানাতে কত টাকা লাগে?
অ্যাপ তৈরির খরচ নির্দিষ্ট নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে অ্যাপের ধরন ও ফিচারের ওপর নির্ভর করে।একটি সাধারণ অ্যাপ No-Code Builder দিয়ে তৈরি করলে খরচ তুলনামূলক কম হতে পারে।
আবার বড় ধরনের অ্যাপ তৈরি করতে Developer, Server, Database, API এবং অন্যান্য প্রযুক্তির প্রয়োজন হলে খরচ অনেক বেশি হতে পারে।
তবে আমরা এখানে ফ্রিতে নিজের নামে অ্যাপস বানিয়ে দেখিয়েছি। বিনামূলাই এখানে আপনি বেসিক অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন।
তবে প্রফেশনাল অ্যাপস তৈরি করতে চাইলে অনেক টাকা খরচ হতে পারে। বিশেষ করে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি আপনার অ্যাপস প্রিমিয়াম বানাতে চান তাহলে প্রচুর খরচ লাগবে।
আর ফ্রিতে বানাতে চাইলে আমাদের দেওয়া নিয়মগুলো অনুসরণ করুন। সহজেই নিজের নামে বা ব্যান্ডের নামে অ্যাপস বানাতে পারবেন।
উপসংহারঃ শেষ কথা
নিজের নামে অ্যাপ তৈরি করা এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। আপনার যদি একটি ভালো আইডিয়া থাকে, তাহলে প্রোগ্রামিং না জানলেও বিভিন্ন App Builder ব্যবহার করে শুরু করতে পারেন।
আর ভবিষ্যতে আরও উন্নত অ্যাপ তৈরি করতে চাইলে Programming ও App Development শেখা যেতে পারে।
তবে অ্যাপ তৈরি করার আগে শুধু “নিজের নামে একটি অ্যাপ থাকবে” এই চিন্তা না করে ব্যবহারকারীর জন্য অ্যাপটি কী উপকার করবে, সেটি আগে ঠিক করুন। এর ফলে আপনার অ্যাপের গুরুত্ব বাড়বে এবং অ্যাপে প্রচুর ইউজার পাবেন।
পাশাপাশি আপনার ব্যান্ডের পরিচিতি বাড়বে। আর এই অ্যাপ থেকে আপনি ইনকামের সোর্স তৈরি করতে পারবেন। এই ধরনের আরো তথ্যবহুল আপডেট পেতে আমাদের উদ্ভাস আইটি সাইটি ভিজিট করুন।

আমি উদ্ভাস আইটির এডমিন, একজন অনলাইন ইনকাম ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। গত ৫ বছর যাবত আমি ব্লগিং এর সাথে যুক্ত রয়েছি। অনলাইন আয়ের বাস্তব ও কার্যকরী উপায়, প্রযুক্তির আপডেট এবং ডিজিটাল দুনিয়ার নানা দিক নিয়ে আমি নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি। লক্ষ্য একটাই পাঠকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরা।






