চিরতরে মেছতা দূর করার উপায়: ঘরোয়া ও চিকিৎসা পদ্ধতির সম্পূর্ণ গাইড

মেছতা দূর করার উপায় খুঁজছেন? মুখে বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট বাদামী বা কালচে দাগ দেখা দিলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন।

এই দাগগুলোকে সাধারণত মেছতা (Freckles / Melasma ধরনের পিগমেন্টেশন) বলা হয়। সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে মেছতা হালকা করা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এই আর্টিকেলে জানুন চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় , চিকিৎসা পদ্ধতি এবং প্রতিরোধের কৌশল।

মেছতা কি?

মেছতা হলো ত্বকে অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদনের ফলে সৃষ্ট ছোট ছোট গাঢ় দাগ। সাধারণত মুখ, গাল, নাক, কপাল এবং হাতের উপরের অংশে বেশি দেখা যায়। আর এই মেছতা দূর করার কিছু, ঘরোয়া উপায় রয়েছে, সেগুলো আমরা আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত জানাবো। 

চিরতরে মেছতা দূর করার উপায়

সাধারণত যাদের শুষ্ক ত্বক তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। তবে আপনারা চাইলে কিছু ঘরোয়া উপায় এর মাধ্যমে চিরতরে মেছতা দূর করতে পারবেন।

তাছাড়াও ডাক্তারিভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করার মাধ্যমে চিরতরে মেস্তা দূর করা যায়। তবে ডাক্তারের ভাবে করার মাধ্যমে মেছতা দূর হয়ে যায় কিন্তু অনেক সময় চেহারার পরিবর্তন দেখা যায়।

অবশ্যই পড়বেনঃ

যার ফলে আমরা অনেকেই ডাক্তারি ভাবে অনেক ধরনের থেরাপি নিয়ে মেছতা দূর করতে চাই না। তবুও আপনাদের সুবিধার জন্য আমি এখন চিরতরে মেছতা দূর করার কিছু উপায় তুলে ধরব।

লেজার পদ্ধতিঃ আপনারা চাইলে লেজার পদ্ধতি এর সাহায্যে চিরতরে মেছতা দূর করতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে অতি সহজেই মেছতা দূর করা যায় কিন্তু স্ক্রিনে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আর সাধারণত এ ধরনের পদ্ধতি অনেকটা ব্যয়বহুল হয়ে থাকে। তাই আপনি যদি চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় খুঁজে থাকেন, তাহলে এই লেজার পদ্ধতি উপায়টি সম্পর্কে আপনার জানা উচিত।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে লেজার ব্যবহার করে আপনার মুখের বা হাতের মেছতা দূর করা হয়ে থাকে। তবে এই পদ্ধতিতে অনেক সময়ই স্কিন খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যাদের গুরুতর দরকার হবে তারা শুধুমাত্র এই পদ্ধতির সাহায্যে মেছতা দূর করবেন।

মলম বা ক্রিম চিকিৎসাঃ মলম বা ক্রিম লাগানোর মাধ্যমে চিরতরে মেছতা দূর করতে পারবেন। আপনার মুখের যে স্থানে মেছতা হয়েছে সেই স্থানে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ক্রিম বা মলম ব্যবহার করে মেছতা চিরতরে দূর করতে পারবেন।

এর জন্য বলে রাখি অবশ্যই ভালো কোন স্কিন এক্সপার ডাক্তার এর নিকট থেকে মলম বা ক্রিম নিয়ে ব্যবহার করবেন।

কারন আপনার মুখে কোন ক্রিমটি ভালোভাবে সেটি একমাত্র ডাক্তার বলে দিতে পারবে। তারা আপনার মুখে মেছতার ধরন অনুযায়ী ক্রিম দিয়ে থাকবে।

আপনারা যদি নিজে নিজে কোন ধরনের ক্রিম কিনে ব্যবহার করেন তাহলে এতে আপনার ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই আপনার জন্য কোন ক্রিম ভালো হবে সেটি জানতে ডাক্তারের কাছে যাবেন।

সুপার ফেসিয়াল পদ্ধতিঃ আপনারা চাইলে সুপার ফেসিয়াল পদ্ধতিতেও চিরতরে মেছতা দূর করতে পারবেন। এই পদ্ধতিটির নাম হল এপি ডার্মাল হাইপার প্রিভেনশন।

উক্ত উপায়ে আপনারা কিছু ফেসিয়াল পদ্ধতিতে মেছতা দূর করতে পারবেন। এছাড়াও আপনারা আরো অনেক উপায়ে চিরতরে মেস্তা দূর করতে পারবেন।

চিরতরে মেছতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

আপনারা চাইলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিরতরে মেছতা দূর করতে পারবেন। ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপায়ে মেছতা দূর করা যায়। আর এ ধরনের উপায়ে তেমন খরচ হয় না বরং আপনি নিরাপদ উপায়ে মেছতা দূর করতে পারবেন।

প্রাকৃতিক উপায়ে মেছতা দূর করলে কোন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। তবে মনে রাখা ভালো ঘরোয়া ভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে মেছতা দূর করতে কিছুটা সময় বেশি লাগে, এজন্য আপনাদের ধৈর্যের সহিত উপায় গুলো অবলম্বন করে চলতে হবে।

১. টক দই ও মধুঃ আপনার অনেকেই জানেন টক দই আমাদের স্ক্রিন ও ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। টক দই ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার হয়। কারণ টক দই রয়েছে একপ্রকার ব্যাকটেরিয়া ব্যাকটেরিয়া যেটি আপনার ত্বককে পরিষ্কার করতে পারে।

সেজন্য আপনারা দুই চামচ টক দই নিয়ে তার সাথে এক চা চামচ মধু মেশাবেন। দুটি উপাদান ভালোভাবে মেশানো হয়ে গেলে আপনার মুখে মেছতার উপর ভালোভাবে লাগিয়ে রাখবেন।

আরো পড়ুনঃ  মোটা মেয়ে এবং চিকন মেয়ে বিয়ে করার উপকারিতাগুলো জানুন

মিশ্রণটি কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ মিনিট মুখের উপর লাগিয়ে রাখবেন। তারপর ঠান্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।

আর যদি এই মিশ্রণটি শীতের সময় ব্যবহার করে থাকেন তাহলে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন। এভাবে আপনি টক দই সহ মধু প্রতিদিন ব্যবহার করতে থাকুন আপনার মেছতা দূর হয়ে যাবে।

২. আলুর রস ব্যবহারঃ আলুর রস ব্যবহার করেও মেছতা দূর করা যায় এটা হয়তো আপনারা অনেকেই জানেন না। তাদের জন্যই বলছি আলুর রস ব্যবহার করে আপনি মেছতা দূর করতে পারবেন।

আলোর রসে রয়েছে স্টার্চ জাতীয় পদার্থ যেটি ত্বকের মৃত কোষকে দূর করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। আলুর রস ব্যবহার করতে হলে প্রথমে আপনাকে আলুর খোসা ছাড়িয়ে পিস পিস করে কেটে নিতে হবে। তারপর আলুর পিস করা অংশগুলো রস করে নিতে হবে।

এর জন্য আপনি ব্যালেন্ডার ব্যবহার করতে পারেন। ব্লেন্ডারে আলুর পিস করা অংশগুলো নিয়ে রস করে নিবেন। রস করা হয়ে গেলে আলুর রসটি আপনি মুখের উপর কমপক্ষে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখবেন।

এরপর শুকিয়ে গেলে হালকা কুসুম গরম পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলবেন। আর এই আলুর রস আপনারা অবশ্যই একদিন পরপর ব্যবহার করবেন। এভাবে ২-৩ সপ্তাহ ব্যবহার করুন আশা করছি ভালো ফলাফল পাবেন।

৩. লেবু এবং মধুঃ অনেক আগে থেকেই মানুষজন লেবু ও মধু মিশিয়ে রূপচর্চা করে আসছে। তবে আপনারা জানেন কি লেবু ও মধু মিশিয়েও মুখের মেছতা দূর করা যায়। লেবুর আসে থাকা ভিটামিন সি আমাদের ত্বকের জন্য খুব উপকারী।

লেবুর পাশে থাকা ভিটামিন সি এর সাথে মধু ব্যবহার করলে এই মিশ্রণ এর গুনাগুন বেড়ে যায়। কারণ ভিটামিন সি ও মধুতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান একত্রে মিশে মিশ্রণের গুণাগুণ বেড়ে যায়।

আর এটি ব্যবহার করলে আপনার মুখের মেছতা দূর করতে পারবেন। এর জন্য আপনি প্রথমেই একটি লেবু কেটে তার মধ্য থেকে রস বের করে নেবেন। এরপর দুই চা চামচ মধু লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে আপনার মুখের মেছতা জনিত স্থানে লাগিয়ে রাখবেন।

কিছুক্ষণ পর যখন মিশ্রণটি আপনার মুখের উপর শুকিয়ে যাবে তখন ভালো পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলবেন। এভাবে কয়েকদিন ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের বা মুখের ছোপ ছোপ এবং চিরতরে মেছতা দূর হয়ে যাবে।

৪. এলোভেরা জেলঃ সেই প্রাচীনকাল থেকে এলোভেরা জেল রূপচর্চার কাজে ব্যবহার করে আসছে। তাছাড়াও ব্রণ দূর করতেও এই অ্যালোভেরা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে এই এলোভেরা জেল ব্যবহার করে মুখের মেছতা চিরতরে দূর করা যায়। এর জন্য প্রথমে আপনাকে এলোভেরা থেকে জেল বের করে নিতে হবে।

তারপর আপনি এটি সকালে এবং রাতে ব্যবহার করতে পারেন। সকালে হয়ে থাকলে আপনি এটি মুখের ওপর মেছতার দাগের স্থানে লাগিয়ে রাখবেন।

যখন দেখবেন শুকিয়ে যাবে তখন পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিবেন। এছাড়া আপনি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করতে পারেন।

আর ভালোভাবে পেতে রাতে মুখের মেছতার উপর লাগিয়ে ঘুমিয়ে যেতে পারেন। আর সকালে উঠে ভালোভাবে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন। এভাবে এক সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহার করলে মেছতার দাগ কিছুটা হলেও দূর করতে পারবেন।

৫. অ্যাপল সিডার ভিনিগারঃ এই অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করার মাধ্যমে অনেকটা মেছতা দাগ দূর করা যায়। তবে এই অ্যাপেল সিডার ভিনেগার সরাসরি মুখে ব্যবহার করা যায় না। এটি ব্যবহার করার জন্য প্রথমে আপনি অ্যাপেল সিডার ভিনেগার এক থেকে দুই চামচ পানির সাথে মিশিয়ে নিবেন।

মূলত পানির সাথে মিশিয়ে এটি ব্যবহার করা যায়। পানির সাথে মেশানোর পর মুখের মেজতার দাগের স্থানে লাগাবেন। কমপক্ষে পাঁচ থেকে দশ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখার পর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিবেন। এটি মুখের দাগের স্থানে কিছুদিন ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

৬. মুলতানি মাটি বা চন্দন কাঠঃ আপনারা সকলেই জানেন মুলতানি মাটি বা চন্দন কাঠ এর ফেসপ্যাক আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। বর্তমানে প্রায়ই কম বেশি সকলেই মুলতানি মাটি বা চন্দন কাঠের গুড়া দিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে রূপচর্চা করছে।

আপনারা এই মুলতানি মাটি দিয়ে মেছতা দূর করতে পারবেন।এটি শুধু মুখের মেছতা দূর করার সাথে সাথে ত্বকের দাগ দূর করতে সহায়ক।

তাছাড়া এটি ব্যবহারে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার হয় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। আপনারা যেহেতু মেছতা দূর করবেন এজন্য প্রথমেই ১ চা চামচ মুলতানি মাটি অথবা চন্দন গুড়া এর সাথে মধু মেশাবেন।

আরো পড়ুনঃ  কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম ও ১৫টি উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

এরপর গোলাপ জল দিয়ে মিশ্রণটি ভালোভাবে ঘন করে নিবেন। তাহলে আপনারা এক চামচ মুলতানি মাটি এর সাথে মধু মেশানোর পর গোলাপজল দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করবেন।

এবার ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বকের বা মুখের মেছতা জনিত স্থানে আলতোভাবে লাগিয়ে রাখুন। ২০-৩০ মিনিট কমপক্ষে লাগিয়ে রাখবেন।

যখন শুকিয়ে যাবে তখন পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখটি ধুয়ে নিবেন। এভাবে আপনারা যদি তিন থেকে চার সপ্তাহ ব্যবহার করেন তাহলে আপনার মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং মেছতা চিরতরে দূর হয়ে যাবে।

৭. আর্মান্ড ওয়েলঃ আমরা সকলে জানি আর্মান্ড ওয়েলকে সাধারণত বাদাম তেল বলা হয়ে থাকে। বাদাম থেকে তেল বের করে নিয়ে এই আর্মান্ড ওয়েল তৈরি করা হয়।

এ ধরনের তেলে থাকে উচ্চ পরিমাণে ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন ই যা আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তাছাড়াও মেছতা দূর করতেও অধিক কার্যকরী। এই আর্মান্ড ওয়েল উপাদানটি ব্যবহার করার জন্য প্রথমে আপনারা উপরোক্ত আর্মান্ড অয়েলটি হালকাভাবে গরম পড়ে নিবেন।

এরপর আপনার মেছতা জনিত দাগের ওপর লাগাবেন। কিছুদিন এভাবে ব্যবহার করলে আশা করছি আপনারা মেছতা সমস্যাই ভালো ফলাফল পাবেন।

৮. লেবুর রস ব্যবহারঃ লেবুর রসে রয়েছে সাইটিক অ্যাসিড যা আমাদের ত্বকের উজ্জ্বল ভাব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

লেবুতে সাইটিক এসিড সহ অ্যাসট্রিজেন্ট উপাদান উপস্থিত রয়েছে যেটি ত্বকের কালো দাগের স্তর দূর করতে সহায়তা করে থাকে।

তাছাড়া এটি মেছতা দূর করতেও ভালো কাজ করে থাকে। আপনারা এটি মুখে ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য প্রথমেই একটি লেবু নিবেন। লেবুটি কেটে দুই ভাগ করে রস বের করে নিবেন।

এবার কটন বাডে রস লাগিয়ে মুখের মেছতা জনিত স্থানে ভালোভাবে পাঁচ মিনিট ঘষতে থাকুন। এরপর ২০ মিনিট মুখের মেছতার দাগের উপর লেবুর রস লাগিয়ে রাখুন।

তারপর শুকিয়ে গেলে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। প্রতিদিন সকালে ও রাতে দুই বেলায় এভাবে ব্যবহার করলে কিছু দিনের মধ্যেই মেছতা ও ব্রণ সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

৯. হলুদ ও দুধ ব্যবহারঃ আপনারা কি জানেন ত্বকের মেলানিন কমিয়ে মেছতা বা ব্রণ দূর করতে হলুদ অধিক কার্যকরী উপাদান। হলুদের রয়েছে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করার শক্তিশালী গুন।

এর ফলে আপনারা যদি হলুদ দিয়ে কোন ফেসপ্যাক তৈরি করেন তাহলে ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে পারবেন এবং ত্বকের বা মুখের দাগ দূর করতেও পারবেন।

তাছাড়াও হলুদের সাথে দুধ মেশালে এর গুনাগুন আরো বৃদ্ধি পেয়ে যায়। কারণ দুধে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ল্যাকটিক অ্যাসিড।

এর ফলে হলুদ ও দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করলে এটি ত্বকে লাগালে ত্বকের কালো দাগ সহ মৃতকোষ দূর করতে ভালো কাজ করে থাকে।

এর জন্য আপনাকে হলুদ ও দুধ দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করতে হবে। প্রথমে আপনারা তিন চামচ হলুদ গুড়া নিবেন এবং পাঁচ চামচ দুধ নিয়ে একসঙ্গে মিশ্রিত করবেন। ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

এবার উক্ত মিশ্রণটি আপনার ব্রণ অথবা মেছতার উপর লাগান। কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখবেন তারপর শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মেছতা প্রতিরোধ করতে প্রতিদিন ভালোভাবে ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

১০. লেবু ও টমেটো ব্যবহারঃ এই পদ্ধতি ব্যবহার করেও চিরতরে মেস্তা দূর করতে পারবেন। এর জন্য এক চামচ লেবুর রস নিয়ে তার সাথে দুই চামচ টমেটো রস মেশাবেন।

মেশানো হয়ে গেলে মিশ্রণটি আপনার ত্বকের বা মুখে ব্যবহার করুন। মুখে ২০ মিনিট ধরে লাগিয়ে রাখবেন, শুকানোর পর পানিতে ধুয়ে ফেলবেন। মেছতা সমস্যা দূর করতে কমপক্ষে ১ থেকে ২ মাস ব্যবহার করুন।

মেছতা দূর করার ক্রিমের নাম

Hydroo ২% ক্রিমঃ চিরতরে মেছতা দূর করার কার্যকরী ক্রিম হলো Hydroo ২% ক্রিমটি। এই ক্রিম ব্যবহারে মেছতা সহ ব্রণ সমস্যা দূর করা যায়।

এই ক্রিমগুলো সাধারণত সবার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। কারণ ক্রিম গুলো সবার স্কিনে ভালোভাবে কাজ করে না এজন্য আপনাদের অবশ্যই ব্যবহার করার পূর্বে ভালো কোন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিকট পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

কারণ ডাক্তাররাই আপনাদের মেছতা ধরন বোঝে ক্রিম দিয়ে থাকবে, সেই অনুযায়ী আপনারা মেছতা দূর করার ক্রিমগুলো কিনবেন এবং ব্যবহারবিধি অনুযায়ী ব্যবহার করবেন। তাহলে একমাত্র ক্রিম ব্যবহার করে চিরতরে মেছতা দূর করতে পারবেন।

Betavet-N ক্রিমঃ মেছতার সমস্যা দূর করার আরেকটি কার্যকরী ক্রিম হল Betavet-N। এই ক্রিম ব্যবহার করেও চিরতরে মেছতা দূর করা যায়।

আরো পড়ুনঃ  প্রতিদিন কয়টা কাঠবাদাম খাওয়া উচিত 2025

ক্রিমটি অবশ্যই ১৮ বছরের উপরে ছেলেমেয়েদের ব্যবহার করতে হবে অর্থাৎ ১৮ বছরের নিচে ছেলেমেয়েরা এই ক্রিমগুলো ব্যবহার করতে পারবেন না।

যদি ব্যবহার করে থাকেন তাহলে ত্বকে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৮ বছরের উপরের ব্যক্তিরা ব্যবহার করবেন। আর অবশ্যই ব্যবহার করার পূর্বে ডাক্তারের কাছে দেখিয়ে পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন।

Mela care ক্রিমঃ মুখের মেছতা দূর করার জন্য বর্তমানে জনপ্রিয় ক্রিমের নাম হল Mela care। উক্ত ক্রিমটি মেছতা দূর করার জন্য বর্তমানে অধিক ব্যবহার করা হয়ে আসছে।

এই তিনটি সাধারণত ইন্ডিয়ান কোম্পানি তৈরি করেছে। তাই অবশ্যই কেনার আগে আসল ও নকল দেখে কিনবেন। অরিজিনাল প্রোডাক্ট সাধারণত ইন্ডিয়ান কোম্পানির।

উক্ত ক্রিমটি আপনার বাজারে বিভিন্ন দোকানে পেয়ে যাবেন। তবে ক্রিমটি আসল এবং অরজিনাল কিনা তা দেখে কিনবেন। কারণ নকল ক্রিম ব্যবহার করলে আপনার ত্বকে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।

আর এই ক্রিমগুলোর বার্জার মূল্য ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মত হয়ে থাকে। আপনারা মেছতা দূর করতে এ ধরনের ক্রিম গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

মেছতা দূর করার হোমিও ঔষধ

আপনাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা মেছতা দূর করার জন্য হোমিও ঔষধ খুঁজে বেড়ান। তাদের সুবিধার জন্য আমরা আজকের এই পাঠে মেছতা দূর করার হোমিও ওষুধ সম্পর্কে আলোচনা করব। তবে আপনারা চাইলে চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে জেনে ঘরে বসে মেছতা সমস্যা দূর করতে পারবেন।

  • সিফিলিনাম(Syphilinum)
  • ল্যাকেটিস ডিকোক্টাম(Lacetis decoctum)
  • আর্নিকা(Arnica)
  • থুজা(Thuja)
  • বার্বারিস একোপুলিয়াম(Berberis acopulium)
  • সিফিয়া(Siphia)
  • আর্সেনিক(Arsenic)
  • সালফার(sulphar)

এই ওষুধগুলো আপনারা চিরতরে মেছতা দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন। উক্ত হোমিও ওষুধগুলো ব্যবহারে মুখের ব্রণ সহ মেছতা এবং মুখের কালো দাগ দূর করা যায়। তবে এই হোমিও ওষুধগুলো ব্যবহারের কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আপনারা যদি এই ওষুধ গুলো ব্যবহার করেন তাহলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

এই হোমিও ওষুধ গুলো ব্যবহার করলে অতিরিক্ত সূর্যের আলোতে ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। আর সবসময় ত্বক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

এজন্য ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ত্বক এবং মুখ পরিষ্কার রাখবেন। এছাড়াও এই ওষুধ ব্যবহার করার সময়ে আপনারা মুখে অধিক মেকআপ করতে পারবেন না। এসব নিয়ম গুলো মেনে চললে আপনার উক্ত হোমিও ওষুধ ব্যবহারে মেছতাজনিত সকল সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

মেছতা কি চিরতরে দূর করা সম্ভব?

বাস্তবিকভাবে বলতে গেলে, মেছতা পুরোপুরি চিরতরে দূর করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে, বিশেষ করে যদি এটি জেনেটিক কারণে হয়। তবে সঠিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে অনেকাংশে হালকা করা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

উপসংহার

চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় জানতে হলে প্রথমেই কারণ বুঝতে হবে। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, ঘরোয়া যত্ন এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের চিকিৎসা এই তিনটি মিলেই ভালো ফল পাওয়া যায়। ধৈর্য ও নিয়মিত যত্নই এখানে মূল চাবিকাঠি।

FAQS – চিরতরে মেছতা দূর করার উপায়

হোমিও ঔষধ কি ব্রণের জন্য ভালো?

হোমিও ঔষধ আপনি ত্বকে ব্রণের সমস্যায় ব্যবহার করতে পারেন। ব্রণের সমস্যা হয়ে থাকলে হোমিও ঔষধ সবচেয়ে ভালো কাজ করে থাকে। তাই বলা যায় হোমিও ঔষধ ব্রণের জন্য ভালো।

মুখের কালো দাগের জন্য কি ক্রিম ব্যবহার করব?

মুখে কালো দাগের জন্য আপনারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্লিচিং ক্রিম অথবা Betavet-N ক্রিমটি ব্যবহার করতে পারেন।

কালো দাগ দূর করার জন্য কোন ক্রিম ভালো?

কালো দাগ দূর করার জন্য বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ক্রিম রয়েছে। তবে জানা গেছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি অ্যান্টি-ডার্ক স্পট ক্রিম ব্যবহারে ভালোভাবেই ত্বকের কালো দাগ দূর করা যায়।

মেছতা কি ভাবে দূর করা যায়?

মেছতা দূর করার জন্য আপনি মেছতা দূর করার ক্রিম অথবা ঔষধ ব্যবহার করতে পারেন। তা ছাড়াও কিছু ঘরোয়া উপায়ে মেছদা দূর করতে পারবেন যেগুলো সম্পর্কে আমরা আজকের এই পোস্টে আলোচনা করেছি।

Leave a Comment