দাউদের সবচেয়ে ভালো মলম এর নাম জেনে নিন

দাদ (Daud) একটি সাধারণ চর্মরোগ, যা মূলত ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে। এটি শরীরের বিভিন্ন স্থানে যেমন হাত, পা, ঘাড়, পিঠ, কুঁচকি ইত্যাদিতে হতে পারে।

দাদ হলে ত্বকে গোলাকার লাল দাগ, চুলকানি এবং খসখসে ভাব দেখা যায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই দাউদের সবচেয়ে ভালো মলম ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই আর্টিকেলে দাউদের সবচেয়ে কার্যকর মলম, ব্যবহারের নিয়ম এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

Facebook Page Follow Now
Telegram Channel Join Now

দাউদ কেন হয়

সাধারণত দাউদ হওয়ার প্রথমত কারণ হচ্ছে এমন একটি জায়গায় থাকা যে জায়গাতে পরিমাণ মতো আলো বাতাস পৌঁছাতে পারে না যার কারণে দাউদ হতে পারে।

আর যেসব জায়গায় পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো বাতাস পৌঁছাতে পারেনা সেই সব জায়গাতে জন্ম নেয় ছত্রাক। আপনি যে জায়গায় শুয়ে থাকেন সেই জায়গায় আপনার শরীরের মরা চামড়া পড়ে থাকে।

আর ওই মরা চামড়া খাওয়ার জন্য সৃষ্টি হয় ছত্রাক। সাধারণত ছত্রাক মানুষের শরীরের মরা চামড়া খেয়ে থাকে।

আর এই ছত্রাকের কারণে শরীরে দেখা যায় দাউদ এবং চুলকানির মতো বিভিন্ন রোগ। এছাড়াও আপনি যেই জামা কাপড় পরিধান করেন সেইগুলো দীর্ঘদিন যদি না ধুয়ে দেন তাহলে দাউদের মতো রোগ দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও দাউদ একজন হতে অন্য জন ছড়িয়ে যাওয়ার কারণ হলো, দাউদে আক্রান্ত রোগীর, পরিধান করা জামা কাপড় পড়া, যেমন, গামছা তোয়ালে চিরুনি ইত্যাদি ব্যবহার করলে দাদ রোগ ছড়াতে পারে।আরেকভাবে বলা যায় দাদ মূলত ফাঙ্গাস সংক্রমণের কারণে হয়। কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলো:

  • অতিরিক্ত ঘাম
  • অপরিষ্কার কাপড় ব্যবহার
  • ভেজা কাপড় পরে থাকা
  • আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার
  • দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
  • গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া

দাউদের সবচেয়ে ভালো মলম ও ক্রিমের নাম

দাদ দূর করার জন্য বাজারে বেশ কিছু কার্যকর অ্যান্টিফাঙ্গাল মলম পাওয়া যায়। নিচে সবচেয়ে ভালো কয়েকটি মলমের নাম দেওয়া হলো।

  • ডারমিন মলম
  • লুলিজল ক্রিম
  • Miconazole মলম
  • ফানজিডাল এইচ সি ক্রিম
  • টারবিফিন
  • Clotrimazole মলম
  • Ketoconazole মলম
আরো পড়ুনঃ  পিজি হাসপাতাল অনলাইন টিকেট বুকিং করার নিয়ম ২০২৬ (সর্বশেষ আপডেট)

দাউদের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং কার্যকর মলম হলো Clotrimazole। এটি ফাঙ্গাস ধ্বংস করে এবং দ্রুত দাদ ভালো করতে সাহায্য করে।

Ketoconazole একটি শক্তিশালী অ্যান্টিফাঙ্গাল মলম, যা পুরাতন দাদ দ্রুত ভালো করতে সাহায্য করে। এছাড়া আরো ক্রিম রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে দাউদ নির্মূল করা যায়। 

শুধু মলম ও ক্রিম ব্যবহার করলে হবে না , এর পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হবে

।ডারমিন মলম আপনি আক্রান্ত স্থানে তিন থেকে চার বার লাগাতে পারেন। লাগানোর আগে অবশ্যই আক্রান্ত স্থানটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবেন।

আক্রান্ত স্থানে কোনমতেই চুলকানো যাবে না। এই মলমটি কিছুদিন ব্যবহার করতে থাকুন দাউদ দূর হয়ে যাবে। তবে এই মলমটি সাবধানে ব্যাবহার করতে হবে।

কারণ এই মলমটি ব্যবহারে অনেকের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই আপনি ব্যবহার করতে পারবেন কিনা এজন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এই মলমটির দাম২০-৩০ টাকা হতে পারে।

অবশ্যই পড়বেনঃ

আপনার এই মলম গুলো বিভিন্ন ফার্মেসিতে পেয়ে যাবেন।লুলিজল ক্রিম এটিও আপনি আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে পারেন।

আক্রান্ত স্থানে লাগানোর পর কিছু সময় চুলকাতে পারে। তবে দিনে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে কিছুদিনের মধ্যেই দাউদ থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।

এই মলমটির দাম প্রায় ১০০ টাকা। আপনারা উপরের দেওয়া মলম গুলো অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করবেন।

দাদ রোগের লক্ষণ

সাধারণত দাদ রোগের প্রধান লক্ষণ হল শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুসকুড়ি হওয়া। সাধারণত এই ফুসকুড়ি গোল আকার ধারণ করে থাকে এবং এই ফুসকুড়ির রং হয়ে থাকে লালচে কালারের। দাদ রোগীর প্রথম লক্ষণ হল

  • রোগীর ত্বক শুকনো এবং খসখসে হয়ে যায়।
  • দাউদ হওয়া জায়গাটি ফুলে যেতে শুরু করে।
  • এছাড়াও শান্তিতে প্রচুর পরিমাণে চুলকানি হওয়া।

সর্বশেষ লক্ষণ হল যে স্থানে দাউদ হয় ও স্থানে চুল থাকলে চুল পড়ে যায় অথবা লোম থাকলে লোম পড়ে যাওয়া।

শরীরের যে সকল স্থানে দাউদ রোগ হয়

সাধারণত আমাদের শরীরের যে কোন জায়গায় দাউদ অথবা দাদ রোগ হতে পারে। নিচে দাউদ রোগ কোন কোন জায়গায় হয় বলা হলোঃ

  • মাথার ত্বক
  • পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে এবং পায়ের বিভিন্ন জায়গায়।
  • দাদ হতে পারে।
  • দাড়িতে দেখা দিতে পারে।
  • এছাড়াও গোপন অঙ্গে এ রোগ হতে পারে
আরো পড়ুনঃ  সোনালী ব্যাংক পার্সোনাল লোন ২০২৬ ও সোনালী ব্যাংক লোন চার্ট

দাদ রোগ কিভাবে ছড়ায়

আমরা সকলেই জানি যে দাদ একটি সংক্রামক রোগ।এটি সাধারণত বিভিন্ন ফাংগালের জীবাণুর মাধ্যমে মানবদেহে ছড়িয়ে যায়।

সে ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির দাউদ হলে তার সাথে সাথে অপরজন ব্যক্তিরও দাউদের দেখা দিতে পারে। এটি সংক্রমণ ঘটায় মূলত রোগের ব্যবহারকৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র ব্যবহার বা স্পর্শ করলে এই রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে।

যেমন রোগীর ব্যবহৃত জামাকাপড়, রোগীর ব্যবহৃত বিছানা, রোগীর ব্যবহৃত চিরুনি ইত্যাদি ইত্যাদি থেকে দাউদ অথবা দাদ রোগ ছড়াতে পারে।

এছাড়াও এমন পরিবেশে থাকা যে পরিবেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো বাতাস পৌঁছায় না এবং আশেপাশের জায়গাগুলোর থেকে দাদ অথবা দাউদ নামে এই রোগটি উৎপত্তি হতে পারে।

সর্বশেষ দাদ আক্রান্ত বিভিন্ন পশু অথবা প্রাণী থেকে এই রোগ ছড়াতে পারে। যেমন, গরু ছাগল, কুকুর বিড়াল ইত্যাদি প্রাণী থেকে এই রোগ ছড়াতে পারে।

দাউদ অথবা দাদ রোগের চিকিৎসা

সাধারণত এই রোগের চিকিৎসা হিসেবে রোগীকে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ দেওয়া হয়। মূলত চিকিৎসাটা শুরু হয় দাউদের পরিমাণ দেখে।

অর্থাৎ কি পরিমানে রোগটি শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে তার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা শুরু হয়। দাদ হলে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করার পাশাপাশি নিজেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে পরিবারের অন্য কারো এই রোগটি সংক্রমণ না দেখা দেয়। তার জন্য ব্যবহারকৃত কোন জিনিস ব্যবহার করা যাবে না।

এক কথায় রোগীর ব্যবহারকিত জামাকাপড়, চিরনি তোয়ালে ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়াও রোগীকে স্পর্শ করা যাবে না।

আপনার দাদ হয় যদি তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং সতর্কতা অবলম্বন করুন। যাতে করে পরিবারের কারো মধ্যে এই সংক্রমণটি না ঘটে।

দাউদের সবচেয়ে ভালো ঔষধ

সাধারণত কোন ব্যক্তির দাউদ হলে ডাক্তার বিভিন্ন ধরনের ঔষধ ব্যবহার করতে বলে থাকেন। তার মধ্যে রয়েছে,, জেল, স্প্রে, ক্রিম, পাউডার, ট্যাবলেট এবং ক্যাপসুল ইত্যাদি ওষুধগুলো ব্যবহার করার জন্য বলে থাকেন। এছাড়াও দাউদের সবচেয়ে ভালো ঔষধ রয়েছে।

  • কিটোকোনাজল।
  • ক্লট্রিমাজোল।
  • মাইকোনাজোল।
  • টার্বিনাফিন ইত্যাদি।

সতর্কতা,, তবে মনে রাখবেন এই ওষুধগুলো ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ গুলো ব্যবহার করবেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ অথবা জেল অথবা কোন মলম ব্যবহার করবেন না। এতে করে আপনার রক্ত ভালই হবে না বরং রোগ আরো ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে। তাই অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।

আরো পড়ুনঃ  ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা | দিনে কত ঘন্টা মোবাইল চালানো উচিত

দাউদ রোগ ভালো করার ঘরোয়া উপায়

শুরুতে আপনার করণীয় কাজ হবে দাউদ রোগ দেখা দিলে ডক্টরে পরামর্শ নেওয়া এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করবে।

দ্বিতীয়তঃ যতদূর সম্ভব শরীর শুকনো এবং পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করবেন। আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলুন।

আপনার ব্যবহৃত কাপড়-চোপড় এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র প্রতিদিন গরম পানিতে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।

চেষ্টা করবেন এমন পরিবেশে থাকার যে পরিবেশে যথেষ্ট পরিমাণ আলো এবং বাতাস থাকে। এমন পরিবেশে অবশ্যই থাকবেন না যেরকম পরিবেশে পরিমান মত আলো এবং বাতাস না পৌঁছায়।

সতর্কতা অবলম্বন করুন যাতে এটি পরিবারের অন্য কারো কাছে সংক্রমিত না হয়। সর্বশেষ হাত এবং পায়ের নখ কখনো বড় রাখবেন না।

একটু বড়ই হলে হাত এবং পায়ের নখ কেটে ফেলুন এতে করে দাউদের ছত্রাক ছড়াতে পারবে না।

একটি বিষয় মনে রাখবেন যে এমন কোন জামা কাপড় অথবা জুতা পড়বেন না যাতে করে প্রচুর ঘাম হলে আপনার শরীরে সেগুলো বসে যায়। 

দাউদের মলম ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

দাদ দ্রুত ভালো করার জন্য সঠিকভাবে মলম ব্যবহার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

  • আক্রান্ত স্থান সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন
  • ভালোভাবে শুকিয়ে নিন
  • পাতলা করে মলম লাগান
  • দিনে ২ বার ব্যবহার করুন
  • দাগ চলে গেলেও ১ সপ্তাহ ব্যবহার চালিয়ে যান

দাদ কত দিনে ভালো হয়?

সাধারণত দাদ ১ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে পুরাতন দাদ হলে ১ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

উপসংহার – দাউদের সবচেয়ে ভালো মলম

দাদ একটি ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলেও সঠিক মলম ব্যবহার করলে খুব দ্রুত ভালো হয়ে যায়। বিশেষ করে Clotrimazole, Ketoconazole, Terbinafine জাতীয় অ্যান্টিফাঙ্গাল মলম দাউদের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তবে দাদ বেশি ছড়িয়ে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Comment