বর্তমানে বাংলাদেশে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের পার্ট টাইম জব করা যাচ্ছে। যারা পার্ট টাইম জব করতে ইচ্ছুক, তারা প্রথমেই আগে কোন কোন ধরনের পার্ট টাইম জব করা যায় সেগুলো সম্পর্কে জানুন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনলাইন পার্ট টাইম জব গুলো ঘরে বসেই করা যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পার্ট টাইম জব করতে হয়। চলুন নিম্নে সেরা কয়েকটি অনলাইন পার্ট টাইম জব বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনে আসি।
অনলাইন পার্ট টাইম জব কী?
সহজভাবে বললে, যে কাজের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা সময় দিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করা যায় এবং কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, সেটিই অনলাইন পার্ট টাইম জব।
এই ধরনের কাজের বড় সুবিধা হলো অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট অফিসে গিয়ে কাজ করতে হয় না। একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, ভালো ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলে বাড়ি থেকেই কাজ করা সম্ভব।
অবশ্যই পড়বেনঃ
বর্তমান সময়ে পড়াশোনা বা নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি অনলাইন পার্ট টাইম জব করে অতিরিক্ত আয় করার আগ্রহ অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার কারণে ঘরে বসে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আপনারা যারা স্টুডেন্ট রয়েছেন, তারা কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে পার্ট টাইম জব করে অনলাইন ইনকাম করতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে পার্ট টাইম জব পেতে হলে অবশ্যই নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা থাকতে হয়।
অনলাইন পার্ট টাইম জব বাংলাদেশ
নিচে বাংলাদেশ থেকে করা যায় এমন ৫টি জনপ্রিয় অনলাইন পার্ট টাইম কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এই কাজগুলো করতে অনেকটা দক্ষতার প্রয়োজন হয়।
তবে দক্ষতা ছাড়াও অনেক ধরনের কাজ আছে, যেগুলো করার মাধ্যমে খুব বেশি ইনকাম করা যায় না। কিছু টাকা আর্নিং এর জন্য দক্ষতা ছাড়া এই কাজগুলো করতে পারেন।
১. কনটেন্ট রাইটিং
লেখালেখিতে আগ্রহ থাকলে কনটেন্ট রাইটিং হতে পারে আপনার জন্য ভালো একটি পার্ট টাইম কাজ। বিভিন্ন ব্লগ, নিউজ সাইট, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটে নিয়মিত কনটেন্টের প্রয়োজন হয়।
বাংলা বা ইংরেজিতে ভালো লিখতে পারলে আর্টিকেল লেখা, প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন, ব্লগ পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ইত্যাদি তৈরি করার কাজ পাওয়া যায়।
বাংলাতে লেখালেখি করে ইনকাম করার জন্য অনেক নিউজ প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট রয়েছে। যেখানে আপনি পার্টটাইম কন্টেন্ট রাইটিং জব করতে পারবেন।
আপনাকে সারাদিন কাজ করতে হবে না, দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় ব্যয় করে কনটেন্ট রাইটিং করতে পারেন।
লেখার জন্য আনুমানিক ৩ থেকে ৪ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। তবে সঠিকভাবে কনটেন্ট লিখে দিতে হবে। তাহলে আপনি পার্ট টাইম জব করে আয় করতে পারবেন।
আর এখানে ইনকাম করে সম্পূর্ণ আপনার লেখার উপর। যদি আপনি বেশি বেশি আর্টিকেল লিখে দিতে পারেন, তাহলে হয়তো দিনে ১০০০ টাকার বেশি আয় করতে পারবেন।
এখন অনেকের প্রশ্ন থাকে আর্টিকেল রাইটিং জব কোথায় পাবো? আর্টিকেল রাইটিং জব পাওয়ার অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে, যা আমি ইতিমধ্যেই অন্য একটি ব্লগে আলোচনা করেছি। সেখানে ভালো করে জেনে নিন।
২. গ্রাফিক ডিজাইন
আপনার যদি Photoshop, Illustrator, Canva বা অন্য কোনো ডিজাইন সফটওয়্যারে দক্ষতা থাকে, তাহলে গ্রাফিক ডিজাইন করে পার্ট টাইম আয় করতে পারেন।
এই সফটওয়্যার গুলোতে ভালো পরিমাণ দক্ষতা থাকলেই গ্রাফিক্স ডিজাইন করে অনলাইন থেকে আয় করা যায়। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে আয় করতে পারবেন।
বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজগুলো পাওয়া যায়। এছাড়াও ফেসবুকের মাধ্যমে লোকাল মার্কেটপ্লেস থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পর্কিত অর্ডার পেতে পারেন।
অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা নিজেদের প্রোডাক্ট ও দোকান সম্পর্কে জানাতে ভালো ডিজাইনের পোস্টার বানিয়ে থাকে। আর ভালো ধরনের পোস্টার বানাতে হলে গ্রাফিক্স ডিজাইনার প্রয়োজন হয়।
আপনি যদি একজন ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইনার হন, তাহলে এই ধরনের গ্রাফিক্স ডিজাইন সার্ভিস দিয়েই ইনকাম করতে পারেন।
গ্রাফিক্স ডিজাইন কাজগুলো পাওয়ার জন্য ফ্রিল্যান্সিং এর সকল সাইটগুলোতে অ্যাকাউন্ট খুলুন। আপনার কাজ সম্পর্কে বিবরণ দিন। পাশাপাশি ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সিং জব পাওয়ার গ্রুপগুলোতে জয়েন করুন।
এতে করে অনেক সময় ফেসবুক থেকেই ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়। পাশাপাশি নিজের পেজ খুলতে পারেন, নিজের ফেসবুক পেজে আপনার দক্ষতা ও কাজ সম্পর্কে মানুষদের জানান।
বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারলে খুব সহজেই অর্ডার পাওয়া যায়।
৩. ভিডিও এডিটিং
ভিডিও এডিটিং করার স্কিল থাকলে আপনি নিজে থেকেই ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল খুলে ইনকাম শুরু করতে পারবেন।
কারণ ভিডিও এডিটিং জানলে যে কোন নরমাল ভিডিও কে আকর্ষণীয়ভাবে এডিট করে এক্সক্লুসিভ বানানো যায়। এর ফলে এডিট করে ভিডিও আপলোড করলে প্রচুর ভিউজ পাওয়া যায়।
আর আপনারা আগে থেকেই জানেন বেশি ভিউজ পেলে ইনকামের পরিমাণও বেশি হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কেটিং কাজে ব্যবহার করা যায়।
অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা সম্পর্কে ও প্রোডাক্ট সম্পর্কে গ্রাহকদের জানাতে ভিডিও শুট করে থাকে। তবে সকলের পক্ষে এডিট করা সম্ভব হয় না।
একজন দক্ষ ভিডিও এডিটর সঠিকভাবে ভিডিও এডিট করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি ফেসবুকসহ ফাইবারে ভিডিও এডিটিং সার্ভিস গুলো দিতে পারেন।
ভিডিও এডিট করার জন্য ভিডিও এডিটিং এর বিভিন্ন সফটওয়্যার গুলোতে বিশেষ দক্ষতা থাকতে হয়।
ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার গুলো হলঃ
- CapCut
- Premiere Pro
- DaVinci Resolve
- Filmora
এগুলো সবগুলোই ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। কম্পিউটার না থাকলে মোবাইলে CapCut ব্যবহার করে ভিডিও এডিটিং করতে পারেন।
ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করতে জানলে ছোট ভিডিও, YouTube ভিডিও, Reels, Shorts এবং বিজ্ঞাপনের ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ নেওয়া যায়।
শুরুতে নিজের তৈরি কয়েকটি নমুনা ভিডিও পোর্টফোলিও হিসেবে রাখলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
৪. ডেটা এন্ট্রি
ডাটা এন্ট্রির কাজ সম্পর্কে আপনার অনেকেই অবগত রয়েছেন। এই কাজটি বিভিন্ন সফটওয়্যারে করতে হয়। বিশেষ করে মাইক্রোসফট অফিস , মাইক্রোসফট এক্সেল , গুগল সিট ইত্যাদি সহ বিভিন্ন সফটওয়্যারে করতে পারেন।
এখানে আপনাকে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে তথ্যগুলো সাজানো এবং কপি করা কিংবা আপডেট করার মতো কাজ গুলো করতে হয়।
এক্ষেত্রে টাইপিং স্পিড খুবই জরুরী। যদি আপনার হাতে টাইপিং স্পিড খুব ভালো হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি ডাটা এন্টির কাজ করে রেগুলার ভালো পরিমান আয় করতে পারবেন।
আমার এক বন্ধু ডাটা এন্ট্রির কাজ করে প্রতি সপ্তাহে ৩ হাজার থেকে চার হাজার টাকা ইনকাম করে থাকে। সে সাধারণত ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন বিদেশি প্লাটফর্মে কাজ করে।
তবে কাজগুলো করতে অনেক সময় লাগে। বিশেষ করে কাজের প্রচুর চাপ থাকে, আপনাকে অনেক ডাটা বা তথ্য দেওয়া হয় সে অনুযায়ী কাজ করতে হয়।
এক্ষেত্রে অনেক সময় পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা সময় পর্যন্ত লাগতে পারে। আর বড় কাজ দিলে পেমেন্ট বেশি পাওয়া যায়।
সে ক্ষেত্রে আপনি প্রতি কাজের বিনিময়ে ১০০০ থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পেতে পারেন। এটি কাজের ওপর নির্ভর করে।
ডাটা এন্ট্রির কাজ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম পাবেন , এছাড়াও লোকাল মার্কেটপ্লেস থেকে কাজ নিতে পারেন।
আর অনেক ধরনের ওয়েবসাইট আছে যেখানে এই কাজগুলো পাওয়া যায়। ওয়েবসাইট গুলো হলঃ
- Fiverr
- Sportsgigs
- Microworkers
- Freelancer
৫.SEO ও ডিজিটাল মার্কেটিং
বর্তমানে ওয়েবসাইটের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, keyword research, content optimization, social media marketing ইত্যাদি কাজগুলোর প্রচুর ডিমান্ড রয়েছে।
এই কাজগুলো সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা থাকলে এই কাজগুলোর সার্ভিস দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রচুর টাকা উপার্জন করতে পারবেন।
কারণ ভবিষ্যতে এই কাজের ডিমান্ড আরো বাড়বে। কারণ যতদিন যাচ্ছে প্রচুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এবং সকলের নিজের উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করছে।
আর সকলের সাধারণত এই সকল বিষয়ে দক্ষতা থাকে না, সে ক্ষেত্রে একজন ডিজিটাল মার্কেটার এর সাহায্য নিতে হয়।
আপনার এই বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলেই ইনকাম শুরু করতে পারবেন। আপনার দক্ষতা সম্পর্কে অনলাইনে ও ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে প্রচার করুন।
কাজ ভালো হলে অবশ্যই প্রচুর অর্ডার পাবেন। প্রথমদিকে ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে প্রোফাইলের রেটিং বৃদ্ধি পেলে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম থেকেই অনেক অর্ডার পাবেন।
অনলাইন জবের নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন
অনলাইন পার্ট টাইম জবের জনপ্রিয়তার কারণে প্রতারক চক্রও সক্রিয়। বিশেষ করে Facebook গ্রুপ, Messenger কিংবা WhatsApp-এ অনেক সময় সহজ কাজের বিনিময়ে অস্বাভাবিক আয়ের প্রলোভন দেখানো হয়।
কোনো চাকরি পাওয়ার আগে যদি রেজিস্ট্রেশন ফি, জামানত, সিকিউরিটি মানি বা অন্য কোনো অগ্রিম টাকা দিতে বলা হয়, তাহলে ভালোভাবে যাচাই করুন।
এছাড়া OTP, PIN, পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গোপন তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা এবং কাজের শর্ত ও পেমেন্ট পদ্ধতি আগে বুঝে নেওয়া নিরাপদ পদ্ধতি।
উপসংহারঃ শেষ কথা
আমি আর্টিকেলে অনলাইন পার্ট টাইম জব সম্পর্কে কয়েকটি আইডিয়া শেয়ার করেছি। আপনারা ভালোভাবেই জবগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।
এখন আমি বলব এই জবগুলো করার আগে অবশ্যই জব গুলোর সেক্টরে দক্ষতা অর্জন করুন। অনলাইনে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই স্কিল এর প্রয়োজন হয়।
এজন্য প্রথমে স্কিল অর্জন করুন। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্লাটফর্মে কাজের আবেদন করতে থাকুন। ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম হলে সহজেই কাজ পাবেন।
শুরুতে ধীরে ধীরে ইনকাম হলেও আস্তে আস্তে এই পার্ট টাইম ইনকামের পরিমাণ বাড়ানো যায়। আশা করি বুঝতে পারছেন।
এজন্য আমার সাজেশন থাকবে যে কোন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে কোর্স করুন অথবা ফ্রিতে ইন্টারনেটে ভিডিও দেখে শিখতে পারেন।

আমি উদ্ভাস আইটির এডমিন, একজন অনলাইন ইনকাম ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। গত ৫ বছর যাবত আমি ব্লগিং এর সাথে যুক্ত রয়েছি। অনলাইন আয়ের বাস্তব ও কার্যকরী উপায়, প্রযুক্তির আপডেট এবং ডিজিটাল দুনিয়ার নানা দিক নিয়ে আমি নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি। লক্ষ্য একটাই পাঠকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরা।






